বার্ধক্য প্রতিরোধক খাদ্যের বিকল্প,Alternatives to anti-aging foods

বার্ধক্য নিরোধক খাদ্য : (Non-Aging diet)

বার্ধক্য নিরোধক খাদ্য: (Non-Aging diet)

৭৬ বছর বয়স্ক একজন লাইসেন্সধারী এয়ার লাইন্স পাইলট। তার বয়স যখন ৭১ তখন তার মাথার টাক, হাঁটুতে ব্যাথা, চোখের জ্যাতি ক্ষীয়মান এবং উনি স্থায়ী দুর্বলতায় ভুগছিলেন। পাঁচ বছর পর তিনি সকাল ৪ টায় উঠে গাড়ী চালিয়ে পেনসিলভেনিয়া থেকে নিউইয়র্ক এলেন স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য। ‍তিনি মিলিটারী কায়দায় হেঁটে ডাক্তারের চেম্বারে ঢুকলেন। তার চোখের ঔষধ সেরে গেছে, হাঁটুর ব্যাথা এখন আর নেই এবং মাথায় চুল গছিয়েছে। তার বয়স এখন ৫০ এর কোটায় মনে হচ্ছিল । তার পাইলট লাইসেন্স নবায়নের জন্য তিনি এখন এয়ার লাইনন্স অফিসে ঢুকলেন। ফ্লাইট সার্জেন্ট বিষ্ময়ের সাথে লক্ষ্য করলেন যে তিনি চশমা ছাড়াই ছোট অক্ষরের লিখা পড়তে পারেন। তিনি বললেন সত্য কথা হলো আমি ১৫ বছর আগে যা ছিলাম তার চেয়ে এখন অনেক তরুণ মনে হয়।

আর একটি ঘটনা উল্লেখ করা যেতে পারে। ১৬ জন রোগীকে একটি বিশেষ ডায়েটে দেয়া হয়েছিল। তাদের বয়স ছিল ২৫-৬০ বছর। তারা সবাই ছিলেন অসুস্থ এবং সবাই অসুখে ভুগছিলেন। তাদের বলা হয়নি যে, তারা কি আশা করছেন। ৭-১০ দিন পর তাদের প্রত্যেকে রিপোর্ট করলেন যে তারা আগের চেয়ে বেশি শক্তি পাচ্ছেন। সিড়ি িদিয়ে উঠতে আগের মত হাঁপিয়ে উঠছেন না এবং দূর্বল বোধ করছেন না। তাদের শারীরিক উন্নতি একমাস বা আরো বেশী অব্যাহত থাকল। তারপর তাদের যে ডায়েট দেয়া হচ্ছিল তাহা বন্ধকরে দেয়া হল। এক থেকে দুই মাসের মধ্যে তাদের শক্তিকম মনে হল । দূর্বলতা আবার দেখা দিল। এত প্রমাণ হলো যে, আমরা সাধারণত : যে খানা খাই তা সুষম নয় এবং সু-স্বাস্থ্যের জন্য যথেষ্ট নয়। এদরে মধ্যে একজনের বয়স  ছিল ৪৯বছর । তার হৃদরোগ ছিল, মাত্র কয়েকশ গজ ধীরে ধীরে হাঁটলে ও তার বুকে প্রচন্ডব্যাথা শুরু হত এবং তিনি বসে পড়তে বাধ্য হতেন। বিশেষ ডায়েট দেয়ার পর তিনি কোন ব্যাথা অনুভব ছাড়াই কয়েক মাইল হাঁটতে পারেন। তাছাড়া ব্যাথা হলেও তা ক্ষণিকের জন্য এবং প্রচন্ড নয়। এই ডায়েট শরীরে লক্ষণীয় পরিবর্তন আনে। বিশেষ করে যারা বয়স্ক, তারা আগের চেয়ে ভাল বোধ করেন । তাদের চেহারা অনেক ভাল করে যারা বয়স্ক, তারা আগের চেয়ে ভাল বোধ করেন। তাদের চেহার অনেক ভাল দেখায় এবং তা এক সপ্তাহের মধ্যে। তাদের ত্বক আগে শুকনো মলিন দেখাত এখন স্বাস্থ্য উজ্জল দেখায়। এক মাসের মধ্যে চামড়া মসৃণ হয়ে যায়। মুখে ভাঁজ  ভরে উঠতে থাকে চোখের কোনায় লাইনগুলো মিলিয়ে যেতে থাকে । তিন থেকে চার মাসের মধ্যে হাত ও কুনিইয়ের চামড়া ভরে উঠে । সংক্ষেপে তারা আগের চেয়ে সুস্থবোধ করেন এবং আগের চেয়ে তাদের বয়স কম দেখায় । কত কম দেখায় এটা অবশ্য মানসিক ব্যাপার । তবে আপনার বয়স যত বেশী হবে ততই পরিবর্তন নাটকীয় হবে। একটা কথা জোর দিয়ে বলা যায়, এই পরিবর্তন শুধু Skin deep নয়, শুধু ত্বকের ব্যাপার নয়। এই পরিবর্তন শরীরের গভীর থেকে সত্যিকার অর্থে সার্বিক স্বাস্থ্যের উন্নতি।

বার্ধক্য নিরোধক খাদ্য : (Non-Aging diet)

উপরে যে ডায়েটের কথা বলা হয়েছে তা কি এবং কে এই ডায়েটের উদ্ভাবক? এই ডায়েটের নাম Non-Aging diet- বার্ধক্য প্রতিরোধক খাদ্য। এর উদ্ভাবক Dr. Benjamin Frank  । তিনি হাজার হাজার রোগীর চিকিৎসায় সাফল্যের ভিত্তিতে এই ডায়েটে উদ্ভাবন করেছেন। তিনি তিনি ১৯২৩ সালে নিউইয়র্কে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি পড়ালেখা করেন নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় এবং সুইজারল্যান্ডের Fribourgh বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং মেডিক্যাল ডিগ্রি লাভ করেন Geneva বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১৯৬৩ সাল থেকে তিনি নিউইয়র্কে ডাক্তারী পেশায় নিয়োজিত আছেন। ১৯৭০ দশকে তিনি পর্তুগালের একটি মেডিকেল টিমের পরিচালক ছিলেন। তাকে Originator of Nuclic acid therapy নামে অবহিত করা হয়। তার থিওরি হলো- সব জীবন্ত প্রাণী অসংখ্য Cell বা কোষ দিয়ে তৈরী। কোষগুলি এক একটি গ্লোবাল বা একটা ক্ষুদ্র গোলাকার জিনিস, এক একটি ক্ষুদ্র বলের মত। কিন্তু এত ক্ষুদ্র যে ৩০০০ হাজার কোষ পাশাপাশি রাখলে এক ইঞ্চি পরিমাণ দৈঘ্য হবে। সব জীবন্ত কোষ গুলির পুষ্টি দরকার । আর সেই পুষ্টি হল Nuclic acid এই পুষ্টি যথেষ্ট পরিমাণে না পেলে কোষ গুলি ধীরে ধীরে দূর্বল হয়ে যায় এবং পরে মারা যায়। তখনই দেহে বার্ধক্য দেখা দেয় এবং নানা জীবন ধ্বংসকারী ব্যাধি যেমন- Diabetes,Blood pressure, Heart diseases, Cancer ইত্যাদি প্রকাশ পায়। Dr. Frank অসংখ্য রোগীর উপর পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখিয়েছেন  Nuclic acid সমৃদ্ধ খাবার বার্ধক্যের গতি (Aging process) কে শ্লথ করতে পারে এবং জীবন ধ্বংসকারী ব্যাধি গুলোকে বিনা ঔষধে সারিয়ে তুলতে পারে। বার্ধক্য প্রতিরোধক খাদ্য আসলে কি?- এটা এমন কতগুলি খাদ্যের সমষ্টি যার মধ্যে প্রচুর Nuclic acid  রয়েছে।

১. সব ধরনের সামুদ্রিক মাছ (সার্ডিন, স্যামন, চিংড়ি, ইলিশ, পোয়া, ল্যাট্টামাছ ইত্যাদি- এক এক দিন এক এক মাছ খাওয়া- পরিমাণ ১০০-১৫০ গ্রাম )

২. বাচ্চা মুরগী/কবুতরের মাংস (সপ্তাহে একদিন )

৩.বীট বা বিটের রস (সপ্তাহে ২ দিন )

৪. বাদাম/ডাল/মটরশুটি/বিনস/সয়াবিন-১০০ গ্রাম (সপ্তাহে ৩ দিন )

৫. ব্রকলি/ টমেটো /ফুলকপি/মুলা /গাজর (প্রত্যেক দিন )

৬. মাশরুম/কালিজিরা/রসুন/আদা (একদিন পর পর )

৭.প্রত্যেকদিন এক গ্লাস দুধ (স্কিম মিল্ক  হলে ভাল হয় )

৮.প্রত্যেকদিন এক গ্লাস ফলের রস

৯. প্রত্যেকদিন এক গ্লাস সবজীর রস

১০. প্রতিদিন ২-৩ লিটার বিশুদ্ধ পানি।

মাঝে মাঝে এই ডায়েট থেকে বিচ্যুত হলে তেমন কোন ক্ষতি হবে না, তবে ৭,৮,৯,১০ নম্বরের নিয়মগুলি উপেক্ষা করবেন না।এই ডায়েটের সব কঠোর নিয়ম এইগুলি। এই তরল পদার্থ গুলি না খেলে আপনার প্রস্রাবে এসিড জমবে এবয় জটিলতা দেখা দেবেযদি আপনি সেই সব লোকের একজন হন যাদের রক্তে ইউরিক এসিডে (Uric acid ) এর পরিমান বেশী। যে সব জটিলতা দেখা দিতে পারে সে সব হল কিডনি পাথর হতে পারে এবং ব্যথা হতে পারে। আর আপনার স্বাস্থের ভালোর জন্য প্রতিদিন অন্তত দুই লিটার প্রস্রাব হওয়া একান্ত জরুরী। আর দুই লিটার প্রস্রাব হতে হলে আপনাকে দৈনিক তিন লিটার পানি খেতে হবে। এই ডায়েটে এর মধ্যে don’ts  বলতে কিছু নেই। তবে নিরাপদ থাকতে হলে ভেজাল এবং কেমিকেল মুক্ত খাবার/ফল/সবজি গ্রহণ করা একান্ত কর্তব্য। খাবার তৈরীতে যে সব ক্যামিক্যাল বা রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হয় সেগুলো স্বাস্থ্যের জন্য খারাট হতে পারে। ইদানিং কিছু ফসল উৎপাদনে সম্পূর্ণ  জৈব সার (Organic Fertilizers) ব্যবহার করা হচ্ছে। যার মাধ্যমে উৎপাদিত খাদ্যকে আমরা Organic Food বলছি। তা অত্যন্ত স্বাস্থ্য সম্মত এবং দিন  দিন popular হচ্ছে খাদ্য সচেতন মানুষের কাছে।

Dr Frank বলেন যে, তিনি Muscle meat, দুগ্ধজাত চর্বি এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলি মধ্যে প্রচুর পরিমাণে  Saturated fat আছে যা আপনার কোলেস্টেরল এর পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে। দুধ সুস্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী এই জন্য তিনি ননিযুক্ত দুধ সুপারিশ করেন। চিনি ও শর্করা জাতীয় খাদ্য রক্তে চর্বির পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে এবং ফলে ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই এসব খাবারর বেলায় সতর্ক থাকা ভাল। মদ এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এত ইউরিক এসিড এর পরিমাণ বেড়ে যায়। এটা যাতে না হয় সে জন্য প্রচুর পরিমাণে পানি ও ফলের রস পান করার উপর জোর দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *