ডিম(Egg)

ডিম(Egg)

ডিম উচ্চ পুষ্টিমান সমৃদ্ধ খাবর যা সহজে পরিপাকযোগ্য । আজকের দিনে উচ্চবিত্তের খাবার টেবিলে কিংবা  নিম্ন আয়ের পরিবারে বালিকর টিফিন বক্সে ডিমের উপস্থিতি থাকে প্রতিদিন। ডিম আসলে একটিপ্রজনন কোষ যা থেকে ভ্রুণ তৈরি হয়, সৃষ্টিহবে পরবর্তী প্রজন্ম- এটাই প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম। প্রকৃতি হয়তো জানতো না এইডিমই একদিন মানুষ তার খাদ্য তালিকার অন্যতম উপাদান হিসাবে গ্রহণ  করবে। স্বাস্থ্য সচেতন লোকেরা ডিম খাওয়ার ব্যাপারে সবসময়ই একটা অনুমান নির্ভর দুশ্চিন্তায় ভুগেন। তাদের এই দুশ্চিন্তার কারণ ডিমের কোলেস্টেরল । কোলেস্টেরল হৃদরোগ ও মস্তিকে রকাতক্ষরণের জন্য দায়ী। তবে এসব ক্ষেত্রে ডিম কতটুকু দায়ী? ডিমের উপাদান সম্পর্কে ধারণা থাকলে দুশ্চিন্তার আর কোন কারন থাকবেনা । পরীক্ষা করে দেখা গেছে, একটি ডিমে সাদা অংশ বা অ্যালবুমিন থাকে ৩৪-৩৫ গ্রাম যা ডিমের মোট ওজনের শতকরা প্রায় ৫৭ ভাগ, কুসুম থাকে ১৪-১৯ গ্রাম বা৩১ ভাগ আর খোসা থাকে ৫-৭ গ্রাম বা ১২ ভাগ। ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, চর্বি, ভিটামিন এবং খনিজ সমৃদ্ধখাদ্য উপাদান। ২০ প্রকার  অ্যামাইনো এসিডের মধ্যে ৮প্রকার অ্যামাইনো এসিড মানব দেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয়। আর ডিমে এই ৮টি প্রকার অ্যামাইনো এসিডের সবগুলোই বিদ্যমান। ডিমে যে অ্যামাইনো এসিডগুলো থাকে সেগুলো হলো- গ্লুটামিক এসিড-১.৬গ্রাম, এসপারটিক এসিড – ১.৩ গ্রাম , লিউসিন -১.১গ্রাম , সেরিন- ০.৯গ্রাম, লিইসিন- ০.৯গ্রাম, ভেলিন-০.৮গ্রাম এনালাইন – ০.৭গ্রাম, আইসোলিইসিন -০.৭গ্রাম, ফিনাইল এলানাইন -০.৬৫ গ্রাম, থ্রিওনাইন-০.৬গ্রাম, টাইরোসিন- ০.৫প্রোলিন-০.৫গ্রাম, গ্লাইসিন -০.৪, মিথিওনাইন- ০.৪গ্রাম, হিসটিউন- ০.৩গ্রাম, সিসটিন-০.৩গ্রাম, ট্রিপটোফেন-০.১৫গ্রাম।

ডিম(Egg)

ডিমে আছে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাটি এসিড।৬০ গ্রাম ওজনের একটি ডিমে Saturated বা সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ ১.৮৬ গ্রাম, Unsaturated বা অসম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ ৩.১২ গ্রাম এবং কোলেস্টেরলের পরিমাণ- ২২৫ মিলিগ্রাম । চর্বি জাতীয় খাদ্যের গুনাগুন বিচারের একটি গুরত্বপূর্ণ বিষয় হলো Saturated বা সম্পৃক্ত চর্বি এবং Unsaturated বা অসম্পৃক্ত চর্বির অনুপাত। উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরলের সাথে সম্পৃক্ত চর্বি খাদ্যে মিলিত হলে মানুষের জন্যে হৃদরোগের কারণ হতে পারে এটা সত্য। কিন্তু ডিমে Saturated বা সম্পৃক্ত চর্বির চেয়ে মানবদেহের জন্য উপকারী Unsaturated বা অসম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ। ডিমের মধ্যস্থিত ফ্যাট এসিডের ৪৭-৪৮ ভাগ মনো Unsaturated, ১৮ ভাগ পলি আর মাত্র ৩৪ ভাগ হলো ‍Saturated । কোলেস্টেরল শরীরের জন্য অপরিহার‌্য । শরীরের বিপাকীয় কাজে কোলেস্টেরেল সবসময় এক গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মানবদেহে পুরুষদের সেক্স হরমোন, টেস্টোস্টেরন আর মহিলাদের সেক্স হরমোন, ইস্ট্রোজেন উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন কোলেস্টেরল।ভিটামিন – ডি  এবং যকৃতের বাইল এসিডের প্রাথমিক উৎস কোলেস্টেরল। মানবদেহে কোলেস্টেরলের মাত্রার চেয়ে HDL বা হাই ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন এবং LDL বা লো- ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন এর অনুপাতই সবচেয়ে বেশী গুরত্বপূর্ণ বিষয় । কারণ এর মাধ্যমে কোলেস্টেরল রক্তনালী দিয়ে কোষো প্রবেশ করে। রক্ত থেকে যখন LDL বের হতে না পারে তখনই রক্তনালীতে জমাট বাঁধতে থাকে। কিন্তু HDL কোলেস্টেরলকে বহন করে কোষে পৌঁছে দিয়ে যকৃতে জমা হয়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক গবেষণায় দেখেছেন যে, একজন সুস্থ ব্যক্তি প্রতিদিন একটি ডিম খেলে তার রক্তেকোলেস্টেরলের মাত্রা কখনই বিপদজনক মাত্রায় পৌঁছায় না। ডিমে এমন কিছু উপাদান আছে যেমন এইচডিএল অসম্পক্ত ফ্যাটি এসিড ওমেগা -৩ রক্তের কোলেস্টেরলের পরিমাণ হ্রাস করে এবং রক্তনালীতে এলডিএল বা লো- ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন জমাতে বাধা দেয়। ফলে হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুলাংশে কমে যায়। ডিমে বিদ্যমান খনিজ পদার্থগুলো হলো আয়োডিন যা থাইরয়েড হরমোন তৈরীতে কাজে লাগে, ফসফরাস যা হাড় গঠনের জন্য প্রয়োজন। এছাড়াও আছে সোডিয়াম-০.১২গ্রাম , ক্যালসিয়াম-০.০৫গ্রাম, ক্লোরিন-০.১৮গ্রাম, পটাশিয়াম-০.১২গ্রাম। ডিমের ট্রেস এলিমেন্টগুলো হলো ফেরাস যা লোহিত রক্তকণিকা তৈরীতে কাজে লাগে,জিংক ক্ষত সারাতে এবং ইনফেকশনের বিরুদ্ধে কাজ করে, এছাড়াও যে ট্রেস এলিমেন্টগুলো বিদ্যমান তাহলো ম্যাঙ্গানিজ, মলিবডিনাম এবং কপার। মানব দেহের জন্য ভিটামিন অত্যাবশকীয় একটি উপাদান, আর ডিমে রয়েছে অনেক ধরনের ভিটামিন। এগুলো হলো প্যানটোথেনিক এসিড – ১.৩mg, রিবোফ্লাবিন -০.৫ mcg, ইউ-০.১৪ mcg, নিয়সিন- ০.০৭ mcg, থায়মিন- ০.০৬ mg, ভিটামিন – এ ৭৪০ mcg, ভিটামিনই২-৩১০, ফুলাসিন- ৪৬, ভিটামিন ই ১২১। মানুষের জন্য অত্যন্ত উপকারী Omega-3 ডিমে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান। এই ফ্রি ফ্যাটি এসিড শরীরের সাইকোটাইনিস নিয়ন্ত্রনন করে। ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়।গবেষণায় দেখা গেছে এ Omega -3 রক্তের প্লাজমায় ট্রাইগ্লিসারিডের পরিমাণ কমায় যার ঠলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়। Omega-3 চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখে। একটি ৬০ গ্রাম  ডিমে শতকরা হারে সেলেনিয়াম (৩২.৪%) . ভিটামিন বি -১২(৩০%) , কলিন(২৭.৬%), রাইবোফ্লাভিন (১৮%),প্রোটিন(১৫.৬%), ফসফরাস(১৩.২%) , ভিটামিন ডি(১০.২%) , ফেলেট(১০.৮%) , ভিটামিন এ(৯.৬%) ,আযরন(৭.২%) , ক্যালরী/শক্তি(৪.৮%), ভিটামিন বি -৬(৪.৮%), জিংক(৪.৮%), ভিটামিন ই(২.৪%) বিদ্যমান ।

ডিম(Egg)

জাপানি ডা: কামিয়াকির মতে, ডিমে Omega-3 এর পাশাপাশি অন্ততঃ ২০০ ধরনের অ্যান্টিবডি রয়েছে , যা মানব দেহে সালমোনেল আক্রমণ রোধ করে। রক্তের জমাট বাঁধা বা থ্রম্বোসিসের মাত্রা কমিয়ে নিতে পারে এই Omega-3। মাংসের ক্ষয়পূরণ রোধকল্পে ও ব্রেষ্ট ক্যান্সার রোধেও Omega-3 কাজ করে থাকে । ডিমে আছে কলিন , যা স্নায়ুতন্ত্রের স্বভাবিকতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। মস্তিস্কি এবং কর্ডিও – ভাসকুলার সিস্টেমের জন্যও উপকারী কলিন। যকৃতের কাজ স্বাভাবিক রাখতে কলিন (choline) কাজ করে। স্তন  ক্যান্সার রোধে ও কলিন কাজ করে। কলিন বাচ্চাদের নিউরন কোষ তৈরিতে সহায়তা করে , যা মেমোরী সেন্টার গঠনে ভূমিকা রাখে। গর্ভবতী মাকে প্রতিদিন একটি করে ডিম খাওয়ালে বাচ্চা হতে পারে উন্নত স্মৃতিশক্তির অধিকারী। কলিন রক্ত নালীতে কোলেস্টেরল এর জমাট বাঁধতে বাধা দেয় । কারণ হোমসিসটিন নামক অ্যামাইনো অ্যসিড যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। সেই হোমসিসটিনকে ভেঁঙ্গে ফেলে এই কলিন । চুলের সুস্থতা বজায় রাখতে ডিমের মধ্যে যে সালফার, ভিটামিন ও মিনারেল আছে এদর ভূমিকা অনেক বেশী। ডিমের ক্যারোটিনয়েড  পিগমেন্ট ভিটামিন – এ এর উৎস এবং এটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। ক্যরোটিনয়েড পিগমেন্ট ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে। ডিমের জৈব ক্রোমিয়াম, ইনসুলিন উৎপাদনের মাধ্যমে রক্তে চিনির সক্ষমতা বজায় রাখে এবং  ডিমের মধ্যে যে এলবুমিন আছে তা মিউকাস মেমব্রেনকে সক্ষণাবেক্ষণ করে ফলে পাকস্থলীরপ্রদাহ, আলসার, ডায়রিয়া , ইত্যাদি প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এক কথায় বলা যায়-

Healthy Benefits of Egg Means:

  1. Rich source of Protein
  2. Promotes cell cabity
  3. Rich in choline
  4. Richin Omega -3 fatty acid
  5. Good for prefnant women
  6. Good source of energy

ডিম নিয়ে আছে অনেক কুসংস্কার । ডিমের পুষ্টিগুণ নিয়ে আছে অস্বচ্ছতা। পরীক্ষার দিন ডিম খাওয়া যাবেনা, বয়স্ক মানুষের ডিম খাওয়া যাবে না, ডিম খেলে হৃদরোগের আশংকা বেড়ে যায় ইত্যাদি। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ডিমে আছে বহুগুণ। তাইআসুন শিশু , বৃদ্ধ, নারী, পুরুষ সকলেই প্রতিদিন একটি করে ডিম খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলি। এতে আপনি পুষ্টি পাবেন সহজে, আপনার জীবনী শক্তি বেড়ে যাবে অনেকাংশে। পাশাপাশি পোল্ট্রি শিল্পের বিকাশ হবে আর উন্নয়ন হবে এদেশের হাজার হাজার ছোট বড় খামারীর , যারা রোদে পুড়ে , বৃষ্টি জলে ভিজে উৎপন্ন করছে  আমার আপনার পুষ্টি ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *