মধু (Honey)

মধু (Honey)

ভাত, রুটি বা আলুর মত মধু একটি শর্করা জাতীয় খাদ্য (Carbohydrate) । সবাই জানেন এই জাতীয় খাদ্য শরীরের শক্তি সরবরাহ করে। তবে ভাত, রুটি বা আলু থেকে শক্তি পেতে বেশ সময় লাগে। একটি জটিল হজম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই খাদ্যগুলো glycogen এ পরিনত হয়ে রক্ত ধারার মধ্যে না মেশা পর্যন্ত আমরা শক্তি পাই না। এদিক দিয়ে মধুরএকটি সুবিধা আছে । এর মধ্যে ৩৪.২ভাগ Suger Dextrose আছে। এই উপাদানটি শরীরের মধ্যে দ্রুত glycogen এ পরিণত হয়ে রক্ত ধারার সঙ্গেশ মিশে যায় । তাই ক্লান্তি বোধ করলে , রক্তে glycogen কমে আসলে এটা হতে পারে , মধু খেলে সঙ্গে সঙ্গে শরীরটা আশ্চার্য রকম ভাবে চাঙ্গা হয়ে উঠে। Suger Dextrose  থাকতে মধু একটি তড়িৎ এবং দীর্ঘস্থায়ী শক্তির উৎস। যারা কঠিন শারীরিক পরিশ্রম করেন তারা নিয়মিত মধু খেলে সহজে ক্লান্তি বোধ করবেন না। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে প্রাচীন গ্রীসে অলিম্পিক প্রতিযোগীরা মধু খেতেন। আজকের দিনে ও ট্রেনিং এর সময়ে পর্বতারোহী এবং দূরপাল্লার সাঁতারুদের খাদ্যের  মধ্যে মধুকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

মধু (Honey)

মধু যে শুধু শারীরিক শক্তি জোগায় তা নয়, হৃৎপিন্ডের পেশীকে সতেজ রাখে। খ্যাতনামা পুষ্টিবিশারদ ড.আর্নল্ড লোরান্ড (Dr. Arbold Lorand)মধুকে oats for the heart বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি কলেনঃ হৃৎপিন্ডের জন্য মধুই সবচেয়ে ভালো খাদ্য। বিখ্যাত জার্মান হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ড. ই . কচ (Dr. E. Koch) একই মত ব্যক্ত করেছেন। দার ভাষায়- “ The heart, after getting honey , can be compared to a horse after feeding it oats. It is loaded with strength” .

প্রাচীনকারে মধু দিয়ে খাবার মিষ্টি করা হতো। বর্তমানে এর স্থান দখল করেছেন চিনি। মনে রাখা দরকার যে, ক্যলোরি ছাড়া চিনির অন্য কোন  কোন খাদ্য মুল্য নেই। কিন্তু মধুর মধ্যে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ রয়েছে। ভিটামিন- এ আছে সামান্য , তবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স রয়েছে। Encyclopedia Britannica – “The vitamins (in honey) include significant and nutritional amounts of various components of the Vitamin B-complex some of which are incolved in carbohydrate and amino – acid metabolism.”

তা দেখা যাচ্ছে মধুর মধ্যে বি- ভিটামিন আছে যা কতকগুলো শর্করা এবং আমিষ জাতীয় খাদ্য হজম প্রক্রিয়ায় সাহয্য করে। খ্যাতনামা পুষ্টিবিশরদ লেলর্ড কর্ডেল বলেনঃ With its enzymes, Honey can aid in digestion. এতে ভিটামিন-সি ও আছে , তবে অনেক দিন রাখলে এই ভিটামিন কমে যায়। মধুর মধ্যে যে সব খনিজ পদার্থ বিদ্যমান রয়েছে সেগুলো হচ্ছে : পটাসিয়ম, সালফার, কপার, ফসফরাস এবং লোহা । এতোগুলো খনিজ পদার্থ খুব কম খাবারের মধ্যে আছে । উল্লেখ্য যে প্রোটিন, ভিটামিনএবং শর্করা খাদ্যের মত খনিজ পদার্থ ও আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন, বিশেষ করে জীবনের দ্বিতীয়ার্ধে । এগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করে; কোন একটার অভাব হলে অন্যান্যগুলো তেমন সুফল দেয় না। তাছাড়া ভিটামিন ও প্রোটিনের সাথে এদের সম্পর্ক আছে। প্রয়োজনীয় পরিমাণ খনিজ পদার্থের অভাবে প্রোটিন ওভিটামিন ঠিকমত শরীরের কাজে লাগে না। অনেকগুলো খনিজ পদার্থের সমাবেশ থাকায় মধুএকটি অত্যন্ত পুষ্টিকর, শরীর- সক্ষাকারী খাদ্য হিসাবে স্বীকৃত হয়েছে। আমেরিকার  জনসহপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর ই. ভি. ম্যাকোলাম মধুকে one of best protective foods বলে মত প্রকাশ করেছেন। মধু শুধু পুষ্টিকর খাদ্য নয়, একটি ভাল ঔষধও বটে। পবিত্র কোরআন শরীফে সুরা নাহালে মধুর রোগ নিরাময়কারী গুনের কথা বলা হয়েছে। পবিত্র কোরআনের এই বাণী আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে সমর্থিত হয়েছে। The Encyclopedia Americana  তে বলা হয়েছে it (honey) has well recognized medical properties । অনেকগুলো রোগে রোগে মধু ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। হৃদরোগে এর কার‌্যকারিতা সম্বন্ধে প্রফেসর Dr. E. Koch যার কথা উপরে উল্লেখ করেছি তিনি বলেনঃ তিনি বহুরোগীর উপর পরীক্ষা করে দেখেছেন যে এই রোগে Digitalis ঔষুধ যে কাজ দেয় মধু অনুরুপ কাজ দেয় । তিনি আরো বলেন যে, হৃদযন্ত্রের পেশী ফুলে গেলে যেটা ডিপথেরিয়া বা অন্যান্য জ্বর হতে পারে, এ কোন উপশম হয় না, কিন্তু মধুতে উপশম হয়। আর একজন চিকিৎসক ডঃজি, এন , ডব্লিউ টমাস (Dr. G. N. W. Thomas) বিট্রিশ ম্যাডিক্যাল জার্নাল  The Lancet এ লিখেছেন : In heart weakness, I have found honey to have a marked effect in receiving the heart action and keeping patients alive. I suggest honey should be given for general physical reair and , above all , for heart failure.

মধু (Honey)

সুইজারল্যান্ডে প্রকাশিত Swiss Bee Journal একটা  পরীক্ষা নিরীক্ষার বিবরণ দিয়েছে। এই পরীক্ষা তিন দল ছেলের উপর চালানো হয়। এদের সবারই স্বাস্থ্য খারাপ ছিল। যে দলটিকে মধু খেতে দেওয়া হয়েছিল সব দিক দিয়ে বাকী দুটি দলের চেয়ে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা যায়। এই দলটি “outdistanced than the other tow in every respect: blood count, weight, energy, vivacity and general appearance” গলা ভাঙ্গা, সর্দি ও কাশিতে মধু খুবই কার্যকারী। যে সব শিশু রিকেট, স্কার্ভি, অপুষ্টি, রক্তশূন্যতা এবং অন্ত্রনালী অসুখে (inflammation of the intestine) ভুগছে তাদেরকে দুধের সঙ্গে মধুখেতে দিলে উপকার হয়। বিশেষ ধরনের রেনু-মিশ্রিত মধু ব্যবহার করে Hey fever সাফল্য জনক ভাবে চিকিৎসা  করা হয়েছে। মধু কিছুটা রেচক (Laxative) বলে নিয়মিত সেবনে কোষ্টকাঠিন্য দুর হয়। এর মধ্যে Antiseptic properties  আছে, তাই ঘা,কাটা, থেতলানো বা পোড়ায় মধু ব্যবহার করা হয়। চিনি – মিশ্রিত খাবার পাকস্থলীতে ferment সৃষ্টি করে। এতে ক্ষতিকর জীবাণু বেড়ে ওঠার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। মধু ferment করে না, বরং পাকস্থলীকে জীবাণু মুক্ত রাখতে সাহায্য করে। লেলর্ড কর্ডেল বলেনঃ It is a good purifier of your digestive tract. পাশ্চাত্য দেশের লোকেরা মদ খায়। বেশী মদ খেলে সকাল বেলা অসুস্থ বোধ হয় । একে hangover বলে। ডেনমার্কে প্রখ্যাত alcoholism expert ড. ওলিফ মারটেনসেন লার-সেন (Dr. Ollif Martensen Lar-sen) বলেছেন, এই অবস্থয় আধা পোয়া মধু আধ ঘন্টা পর পর দুবার খেলে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবেই।

উপরের বিবরণ থেকে এটা স্পষ্ট যে মধু একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাদ্য এবং মূল্যবান ঔষধ। তাই চিনির পরিবর্তে মধু ব্যবহার করা উচিৎ। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমাদের দেশে ভাল মধু পাওয়া যায় না। এখানে মধু সংগ্রহ রীতি তেমন স্বাস্থ্যবিধি সম্মত নয়। তাছড়া এই ভেজাল খাবারের দেশে খাঁটি মধু যে দৃর্লভ তা বলাই বাহুল্য। মধু নামেযে জিনিসটি বিক্রি হয় তার বেশীরভাগই হয়তো চিনি বা গুড়ের মিশ্রণ। তবে ইদানিং অনেক প্রাইভেট কোম্পানী বণিজ্যিকভাবে মধু আহরণ করা শুরু করেছে।যা হোক মধুর খাদ্যমুল্য ও উপকারিতার কথা বিবেচনা করে সরকারী বা বেসরকারী পর্যায়ে মোমছি লালন-পালন ও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। মধু আহরণ স্থান যেমন-সুন্দরবন, সরিষা-কালিজিরা ক্ষেতের মাঠ, আম ও লিচু বাগান থেকে ও বর্তমানে মধু  সংগ্রহ করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশে সরিষা ও কালিজিরার আবাদ ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এত মধু উৎপাদনভবিষ্যতে আরে বৃদ্ধি পাবে। ইদানিং বেশ কয়েকটি কোম্পানি স্বাস্থবিধি সম্মতভাবে মধুসংগ্রহ এবং বাজারজাত করণের ব্যবস্থা করছেন। এতে ভালো মানসম্পন্ন মধুর প্রাপ্যতা বৃদ্ধি পাবে।

1 thought on “মধু (Honey)

  1. hydra ссылка доступна в тор Браузер, тор браузер это свободное и открытое программное обеспечение для реализации 2-го поколения так называемой луковой маршрутизации. Это система прокси-серверов последовательно связанных между собой в продолжительную цепочку интернет соединений, позволяющая настраивать секретное не оставляющее следов сетевое соединение. Возможно рассматривать как анонимную сетку виртуальных туннелей (VPN), предоставляющая передачу информации в зашифрованном варианте. Известность получил как инструментарий для “свободного” online-серфинга, к примеру просмотра заблокированных вебсайтов например Гидра и похожих интернет-ресурсов из теневого интернета (Darknet). Применяя тор браузер Вы будете неизвестными только до тех пор пока не будете хранить свои индивидуальные данные, надо помнить о своей защищенности, поэтому мы рекомендуем Вам не сохранять пароли и другую информацию, используя которую злодеи сумеют Вам причинить вред, очищайте кэш, куки и стирайте историю посещений.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *