করলার পুষ্টিগুণ

বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত গুরত্বপূর্ণ হেলথ টিপস

করলা জন্মায় ট্রপিক্যাল দেশগুলোতে। যেমন- এশিয়া, পূর্ব আফ্রিকা, ক্যারিবীয় দীপপুঞ্জ, দক্ষিণ আমেরিকা। করলা স্বাদে তিতা , তবে উপকারী অনেক। এশিয়া অঞ্চলে হাজার বছর ধরে এটি ঔষধি হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। দক্ষিণ আমেরিকার আমাজান অঞ্চলের আদিবাসীরাও বহু বছর ধরেই করলাকে ডায়বেটিস , পেটের গ্যাস , হাম ও হেপাটাইটিসের ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। ব্যবহার করে আসছে উচ্চ রক্তচাপ কমাতে , ম্যালেরিয়া জ্বরে এবং মাথা ব্যথায়ও। করলায় আছে পালং শাকের চেয়ে দ্বিগুন ক্যালসিয়াম আর কলার চেয়ে দিগুণ পটাশিয়াম। আছে যথেষ্ট লৌহ , প্রচুর ভিটামিন এ , ভিটামিন সি এবং আঁশ । ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি এন্টি অক্সিডেন্ট, বার্ধক্য ঠেকিয়ে রাখে, শরীরের কোষগুলোকে রক্ষা করে। আছে লুটিন আর লাইকেপিন। এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।লাইকোপিন শক্তিশালী এন্টি অক্সিডেন্ট। করলা ইনসুলিন রেজিষ্টেন্স কমায়। করলা এডিনোসিন  মনো-ফসফেট অ্যাকটিভেটেড প্রোটিন কাইনেজ নামক এনজাইম বা আমিষ বৃদ্ধি করে রক্ত থেকে শরীরের কোষগুলোর সুগার গ্রহণ করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। শরীরের কোষের ভিতর গ্লুকোজের বিপাক ক্রিয়াও বাড়িয়ে দেয় ফলে রক্তে সুগার কমে যায়। করলা আরও যে সব উপকার করে- রক্তের চর্বি তথা প্রাইগ্লিসারাইড কমায় কিন্তু ভালো কোলেষ্টেরল এইচডিএল বাড়ায়। ক্রিমিনাশক, ভাইরাসনাশক , হেপাটাইটিস-এ হারপিস ভাইরাস, ফ্লু ইত্যাদির বিরুদ্ধে কার্যকর। ক্যান্সাররোধী, লিভার ক্যান্সার, লিউকেমিয়া, মেলানোমা ইত্যাদি প্রতিরোধ করে। এটি জীবাণুনাশী।বিশেষ করে ই-কোলাই নামক জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকর।

তথ্যসূত্র: ডা: মোঃ শহীদুল্লাহ

সহযোগী অধ্যাপক, কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগ

কমিউনিটি বেজড মেডিক্যাল কলেজ, ময়মনসিংহ।