জিহ্বা দেখে রোগ চেনা

বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত গুরত্বপূর্ণ হেলথ টিপস

জিহ্বা দেখে সর্বক্ষেত্রে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব না হলেও রোগ সম্পর্কে একটি ধারণা অবশ্যই লাভ করা সম্ভব। জিহ্বা পরীক্ষার আগে এমন কিছু খাওয়া উচিত নয়, যা জিহ্বার রঙয়ের ক্ষেত্রে সাময়িক পরিবর্তন আনতে পারে। যেমন : কফি, বিট এবং কৃত্রিম রং যুক্ত খাবার গ্রহণ করার পর জিহ্বা পরীক্ষা করা ঠিক নয়। সাধারণত জিহ্বাকে ১৫ সেকেন্ডের বেশি পরীক্ষা করা হয় না। যদি এর চেয়ে শি সময় জিহ্বা দেখা হয় তবে অবস্থাজনিত টানের কারণে জিহ্বার আকৃতি এবং রঙয়ের পরিবর্তন হতে পারে। জিহ্বার অগ্রভাগ যদি লাল হয় তবে তা মানবদেহের হৃদযন্ত্রে তাপ সৃষ্টির নির্দেশনা দিয়ে থাকে। কারণ হৃদ-যন্ত্রের অবস্থার সঙ্গে জিহ্বার অগ্রভাগের সম্পর্ক রয়েছে। তবে খেয়াল  রাখতে হবে যে মুখের আলসারের কারণে জিহ্বার অগ্রভাগ লাল হয়েছে কিনা। জিহ্বার অগ্রভাগের ঠিক পেছনের অংশের সঙ্গে ফুসফুসের যোগসূত্র রয়েছে। জিহ্বার পাশের অংশ দেখে লিভার বা যকৃতের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা করা যায়। জিহ্বার মধ্যবর্তী অংশ পাকস্থলী, প্লীহা বা হজমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। জিহ্বার পেছনের অংশ কিডনির অবস্থা সম্পর্কে একটি নির্দেশনা প্রদান করে। এ ছাড়া বিভিন্ন অসুখ যেমন, ঠান্ডা এবং হজমজনিত সমস্যা সম্পর্কেও নির্দেশনা প্রদান করে। শুধু তাই নয়, জিহ্বার অগ্রভাগ যদি চোখা হয় তা হলে ধারণা করা যায় যে, এই ব্যক্তি মানসিকভাবেআগ্রাসী অথবা আক্রমণাত্মক হতে পারেন। তার মানে এই নয় যে, জিহ্বার অগ্রভাগ চোখা হলে কেউ আগ্রাসী বা আক্রমণাত্মক মনোভাব সম্পন্ন হবেই। জিহ্বার অগ্রভাগ বিভক্ত থাকলে বুঝতে হবে এই ব্যক্তির শারীরিক বা মানসিক ভারসাম্য কম থাকলেও থাকতে পারে। জিহ্বার অগ্রভাগ যদি গোলাকৃতির হয় তা মানসিক এবং শারীরিক দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান দেয়। তবে খোলা চোখে জিহ্বার অস্বাভাবিক কিছু দেখলে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।

তথ্যসূত্র : ডা. মোঃ ফারুক হোসেন , মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ।