ডায়বেটিসের স্মার্ট চিকিৎসা

সমকালিন কয়েকটি মরণঘাতি রোগ
ডায়বেটিসের স্মার্ট চিকিৎসা

বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় ৮০-৯০ লক্ষ লোক ডায়বেটিসে আক্রান্ত এবং বহু রোগী চিকিৎসাধীন। এছাড়া ডায়বেটিসের অসংখ্য রোগী এখনো শণাক্ত করা হয়নি। সর্বক্ষেত্রে ডায়বেটিস চিকিৎসার প্রধান ঔষধ হলো ইনসুলিন। এখন পর্যন্ত ইনসুলিন সাধাণত ইনজেকশন হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে। তা অধিকাংশ রোগী সহজভাবে মেনে নিতে পারেন না। এমন অনেক ক্ষেত্র আছে যেখানে ইনসুলিনের কোনো বিকল্প থাকে না। ইনসুলিন দিয়ে ডায়টিসের চিকিৎসা করার অন্য আরেকটি বিবেচ্য বিষয় হলো চিকিৎসা ব্যয়। এ অবস্থায় পরিবর্তনের জন্য ব্যাপক গবেষণা চলছে বহুদিন ধরেই। কয়েক বছর আগে ইনহেলার ইনসুলিন বাজারজাত করার পর অনেকে আশান্বিত হয়েছিল। কিন্তু সেটি  বেশিদিন টেকেনি। ২০১৪ সাল থেকে আবার ইনহেলার ইনসুলিন  বাজারজাত করা হচ্ছে। এবার মোটামোটি আশাপ্রদ হওয়া যায়। এর চেয়েও আকর্ষণীয় ও ইনজেকশন নয়- এমন ইনসুলিন হাতের নাগালে এসে যাচ্ছে। সম্প্রতি স্মার্ট প্যাচ নামে এমন একটি বিশেষ যন্ত্র  তৈরি করা হয়েছে। যাত্বকের উপর স্থাপন করা থাকলে যন্ত্রটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা আপনা আপনি মেপে প্রয়োজনমতো ইনসুলিন নিঃসরন করবে। বিজ্ঞানীদের আশা এতে বিশ্বের কোটি কোটি ডায়বেটিসের রোগী কষ্টদায়ক ইনজেকশন নেওয়ার ঝুকি ঝামেলা থেকে মুক্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে পারবেন। অত্যন্ত উচ্চ প্রযুক্তির এ স্মার্ট প্যাচ অনেকটা প্লান্টের মতো চামড়ার সঙ্গে লেগে থাকবে। আকারে অনেকটা ডাকটিকেটের মতো ছোট। এর সঙ্গে ইনসুলিন ও গ্লুকোজের মাত্রা নির্ণয়ের জন্য এনজাইম সংযুক্ত থাকবে। এ প্রযুক্তির মুল বিষয় হচ্ছে , ছোট ছোট বুদ্ধদের মতো ইনটেলিজেন্ট ন্যানো – পার্টিকল। এ বুদ্ধদের মধ্যে ইনসুলিন ও গ্লুকোজের মাত্রা নির্ণয়ের জন্য এনজাইম সংরক্ষিত থাকবে। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইনটেলিজেন্ট ন্যানো পার্টিকেল তা শণাক্ত ও প্রয়োজন মতো ইনসুলিন নিঃসরণ করবে। একটি স্মার্ট প্যাচ  একনাগাড়ে কয়েকদিন ব্যবহার করা যাবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সময়মতো তা বদলেও নেওয়া যাবে। নর্থ ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা প্রাথমিকভাবে ইঁদুরের শরীরে পরীক্ষ করে সফল হয়েছেন। অচিরেই এটি মানুষের শরীরে ব্যবহার করা যাবে। সবার আশা, তা সফল হলে ডায়াবেটিসের চিকিৎসা একটি নতুন স্তরে উন্নীত হবে।