ভেজাল খাদ্যপণ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি :

খাদ্যে ভেজাল ও এর ক্ষতিকারক প্রভাব

১৯৯৪ সালে আমেরিকার এনভায়রনমেন্টে প্রটেকশান এজেন্সির প্রতিবেদনে প্রকাশ , ফরমালিন ফুসফুস ও গরগিল এলাকায় ক্যান্সার সৃষ্টি করে। ২০০৪ সালের ১ অক্টোবর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে গরগিল এলাকায় ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য ফরমালিনকে দায়ী করে। টেক্সটাইল কালারগুলো খাদ্য ও পানীয়ের সঙ্গে মিশে শরীরে প্রবেশের পর এমন কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নেই যার ক্ষতি করে না। তবে সবচেয়ে বেশী দৃশ্যমান ক্ষতিগুলো হয় আমাদের লিভার, কিডনি, হৃদপিন্ড ও অস্থিমজ্জার । ধীরে ধীরে এগুলো নষ্ট হয়ে যায়। বাচ্চা ও বৃদ্ধদের নষ্ট হয় তাড়াতাড়ি, তরুণদের কিছুটা দেরিতে। খাদ্যপণ্য ভেজালের কারণেই দেশে বিভিন্ন রকমের ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস, কিডনি ফেলিউর , হৃদযন্ত্রের অসুখ, হাঁপানি এগুলো অনেক বেড়ে যাচ্ছে। আর আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাচ্ছি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের নিকট রোগীদের লম্বা লাইন। জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেমজ্ঞ ডা: আব্দুল্লাহ জানান, ফুটপাতে শরবত তৈরির ব্যবহৃত পানি ও বরফ দুষিত। এর ফলে হেপাটাইটিস-ই ও হেপাটাইটিস – এ রোগ সংক্রমণের প্রবণতা রয়েছে। শরবতে ব্যবহৃত রং কিডনি ও লিভারে জটিলতা সৃষ্টি  করে। একই গ্লাস বারবার ব্যবহারের ফলে একজনের রোগ জীবাণু সংক্রমিত করে অন্যকে । কৃষিবিদ ড. আঃ মান্নান বলেন ব্যবসায়ীরা যেসব নিম্নমানের কার্বাইড ব্যবহার করেন তা থেকে আর্সেনিক তৈরি হয়। আর্সেনিক হলো সেঁকো বিষ। সেই বিষই ফলের মধ্যে থেকে যায় এবং মানব শরীরে প্রবেশ করে। ফল ভালো করে ধুয়ে খেলে কম ক্ষতি হলেও নির্মূল হয় না কখনো। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের ”বিষাক্ত খাদ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি” শীর্ষক সেমিনারে বলা হয়, শুধু ভেজাল খাদ্য গ্রহণের ফলে দেশে প্রতি বছর প্রায় ৩ লাখ লোক ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে। বছরে ডায়বেটিস আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৫০ হাজার , কিডনি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ।

এ ছাড়া গর্ভবতী মায়ের শারীরিক জটিলতাসহ গর্ভজাত বিকলাঙ্গ শিশুর সংখ্যা দেশে প্রায় ১৫ লাখ। কেমিক্যাল মিশ্রিত বা ভেজাল খাদ্য গ্রহনের ফলে যে উপসর্গগুলো দেখা যায় সেগুলো হলো- পেটব্যাথাসহ বমি হওয়া, মাথাঘোরা, মল পাতলা বা হজম বিঘ্নিত মল , শরীরে ঘাম বেশী হওয়া এবং দুর্বল হয়ে যাওয়া, পালস্ রেট কমে বা বেড়ে যেতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তাজমেরী এস এ ইসলাম বলেন, ইউরিয়া ও হাইড্রোজ হচ্ছে এক ধরনের ক্ষার। এগুলো পেটে গেলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে পেপটিন এসিড তৈরি করে যা ক্ষুধামন্দা , খাবারে অরুচি, বৃহদান্ত ও ক্ষুদ্রান্তে প্রদাহসহ নানা রকম শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি করে। জাতীয় কিডনি রোগ ও ইউরোলজি ইনস্টিটিউটের ডা. আহমদ সাইফুল জব্বার বলেন, মেটাল বেইজড ভেজাল খাবারে, কিডনি স্বল্পমাত্রা থেকে সম্পূর্ণ বিকল হতে পারে। পরিপাকতন্ত্রে ভেজাল খাবারের জন্য হজমের গন্ডগোল, ডায়রিয়া এবং বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ঢাকা শিশু হাসপাতালের এনেসথেসিয়া ডা. মো. মিল্লাত ই- ইব্রাহীম বলেন, বিভিন্ন প্রকার শাকসবজি ও ফলমূল উৎপাদনের জন্য কীটনাশক ব্যবহার করার ফলে এ খাবার গুলোতে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিষক্রিয়া কার্যকর থাকে । যা রান্না করার পরও অটুট থাকে। তা ছাড়া বিভিন্ন প্রকার মুখরোচক খাবার ও ফলমূল আকর্ষণীয় করে ড দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করার জন্য ক্ষতিকর কার্বাইড, ইন্ডাসট্রিয়াল রং, ফরমালিন, প্যারাথিয়ন ব্যবহার করা হয়। এগুলো গ্রহণের ফলে কিডনি, লিভার ফাংশন , অ্যাজমাসহ বিভিন্ন প্রকার জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ভেজাল খাবারের কারনে যে রোগগুলো দ্বারা মানুষ বেশী আক্রান্ত হয় তাহলো অ্যালার্জি , অ্যাজমা, চর্মরোগ, বমি, মাথাব্যাথা, খাদ্য বিষক্রিয়া (Food poisoning), অরুচি, উচ্চ রক্তচাপ , ব্রেণ স্ট্রোক, কিডনি ফেলিউর, হার্ট অ্যাটাক প্রভৃতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *