ফল-ফলাদিতে কেমিক্যাল:

ফল-ফলাদিতে কেমিক্যাল:

খাদ্যে ভেজাল ও এর ক্ষতিকারক প্রভাব

বাজারের কলা, আম, পেঁপে পেয়ারা থেকে শুরু করে আপেল, আঙ্গুর, নাসপতিসহ দেশি-বিদেশি প্রায় সব ফলেই মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত কেমিক্যাল। সাধারন ফল –মুলের উজ্জল রং ক্রেতাদের নজড় কাড়ে, সেগুলো বিক্রিও হয় বেশী দামে। তাই অপরিপক্ক ফল পাকাতে ক্যালসিয়াম কার্বাইড এবং তা উজ্জল বর্ণে রুপান্তর করার জন্য অধিক ক্ষার জাতীয় টেক্সটাইল রং ব্যবহার হচ্ছে অবাধে। ফল গাছে থাকা পর্যায় থেকে বাজারে বিক্রি করা মুহুর্ত পর্যন্ত এক একটি ফলে ছয় দফা মেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়। মূলত গ্যাস জাতীয় ইথাইলিন ও হরমোন জাতীয় ইথরিল অতিমাত্রায় স্প্রে করে এবং ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহার করার কারণেই ফলগুলো রীতিমতো বিষে পরিণত হয়। ব্যবসায়ীরা দাবী করেন ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতেই ফুলমূলে ক্ষতিকর কেমিক্যাল মেশানো হয়। অন্যদিকে ফলমূল দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষন করতে ফরমালিনসহ আরও কিছু বিষাক্ত পদার্থের ও ব্যবহার চলে অহরহ। গত ৬ জুন ২০১৫ আর টি ভি সন্ধ্যার খবরে রাঙামাটিতে কলা, আনারস ও কাঁঠালে রাসায়নিক উপাদান প্রয়োগ করে অপরিপক্ক ফল পাকানোর সচিত্র প্রতিবেদন প্রচার করা হয়। ইথাইলিন, ক্যালসিয়াম কার্বাইড প্রয়োগের কারণে ২-৪ দিনের মধ্যেই ফল হলুদ রং ধারণ করে। বাস্তবে এসব ফল বাইরে পাকা মনে হলেও এর ভিতরের  অংশে অপূর্ণতা থেকেই যায়। পরবর্তীতে সে ফলগুলো খাওয়ার কারনে মানবদেহে ছড়িয়ে পড়ে বিষক্ত কেমিক্যাল –শুরু হয় নানা অসুখ-বিসুখ। অপরিপক্ক ফলমূলের স্বাদ –গন্ধ , ভিটামিনও অনেক কমে যায়। ফল পাকাতে যে বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় তার নাম কার্বাইড।

ফল-ফলাদিতে কেমিক্যাল:

সংবাদপত্র ও বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায়, বাগান থেকে আম পাড়ার পূর্বে কমপক্ষে ২০-৬০ বার পর্যন্ত কীটনাশক , বালাইনাশক ও হরমোন স্প্রে করা হয়। আর আম পারার পর কমপক্ষে তিনবার বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য স্প্রে করা হয়। রাতে গুদাম বন্ধ করার আগে ফরমালিন স্প্রে করা হচ্ছে। ফলে ভোরে আমে ফরমালিনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় না। তা ছাড়া অতিরিক্ত তাপে ক্যালসিয়াম কার্বাইড মেশানে আম রাখলে তা ক্যালসিয়াম সায়ানাইডে পরিনত হতে পারে। যা অতন্ত্য মারাত্বক বিষ। কার্বোহাইড্রেট যুক্ত ফল চেনা অতটা কঠিন কিছু নয়, প্রাকৃতিকভাবে পাকা ফলে সমান (ইউনিফরম) রঙ হবেনা, বোটার অংশে লালছে হলুদ আভা রং হবে এবং ফল মিষ্টি হবে। কৃত্রিমভাবে পাকানো ফলে সব অংশে হলুদআভা সমান রঙ হবে এবং ফলের ভিতরে চামড়ার অংশে একটু তিতা হবে । তা ছাড়া ফলের এক অংশে টক অন্য অংশে মিষ্টি হয়। আশার কথা হল ২০১৫ সাল থেকে রাজশাহী জেল প্রশাসনের তদারকীর ফলে এবং ২৫ মে পর্যন্ত গাছ থেকে আম পাড়া নিষিদ্ধ রয়েছে। ফলশ্রুতিতে আম পরিপক্ক হওয়াতে আম পাকার জন্য কোন কার্বইড বা ফরমালিন দিতে হয় না। মানুষ বিষ মুক্ত আম খেতে পারছে। সুতরাং আমরা বলতে পারি আইনের প্রয়োগ ও মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে বিষমুক্ত ফল খাওয়া সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *