বাজার সয়লাব অবৈধ ফুড সাপ্লিমেন্টে :

খাদ্যে ভেজাল ও এর ক্ষতিকারক প্রভাব
বাজার সয়লাব অবৈধ ফুড সাপ্লিমেন্টে :

রাজধানীসহ সারা দেশে ঔষুধের ফার্মেসিগুলোতে ভিটামিন ও ফুড সাপ্লিমেন্টের নামে রমরমা ব্যবসা চলছে। এক শ্রেণীর চিকিৎসককে প্রভাবিত করে রোগীদের প্রেসক্রিপশনে লিখিত দেওয়া হচ্ছে নকল, ভেজালও নিম্নমানের ভিটামিন ফুড সাপ্লিমেন্ট। কিছু কিছু কোম্পানি ঔষধ প্রশাসনের দেওয়া বৈধ লাইসেন্সের আড়ালে নামে – বেনামে অবৈধ ঔষধ ও ফুড সাপ্লিমেন্ট উৎপাদন ও বাজারজাত করে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য করেছে। তাদের বেপরোয়া তৎপরতার মাধ্যমে অবৈধভাবে বিক্রি হচ্ছে ফুড সাপ্লিমেন্টের নামে স্টেরয়েড সমৃদ্ধ ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, মিনারেল ও জিংক সমৃদ্ধ ঔষধ। উচ্চ মূল্যের কারনে এই ফুড সাপ্লিমেন্টের ব্যবসায় সব পক্ষেরই মোটা অঙ্কের মুনাফার স্বার্থ জড়িত। জানা গেছে, গত কয়েক মাসে ঔষধ প্রশাসনে অনেকগুলো অভিযানে নকল ভেজাল ঔষুধের পাশাপাশি নিম্নমানের ফুড সাপ্লিমেন্ট ধরা পড়েছে। আটা ময়দা সঙ্গে রং, চিনি মিশিয়ে তৈরি এসব ভিটামিন ও ফুড সাপ্লিমেন্টের উৎপাদকরা নামিদামি ডাক্তারদের প্রভাবিত করে রোগীদের প্রেসক্রিপসনে লিখিয়ে দিচ্ছেন। রোগীরাও ডাক্তারের উপর আস্থা রেখে নিয়মিত ব্যবহার করছেন এসব ভিটামিন ও ফুড সাপ্লিমেন্ট । তারা সরল বিশ্বাসে প্রতারিত হচ্ছেন। ঔষধ প্রশাসনের একজন পরিচালক জানান, ডাক্তাররা শুধু ঔষুধ প্রেসক্রাইব করবেন। এ ছাড়া তাদের প্রেসক্রিপশনে ফুড সাপ্লিমেন্ট প্রেসক্রাইব করার নিয়ম নেই।ফার্মেসিতেও এসব ফুড সাপ্লিমেন্টের বিক্রির ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। কিন্তু কার্যকর কোনো তদারকির ব্যবস্থা না থাকায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন ফার্মেসিতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে এসব।ঔষধ প্রশাসন দাবি করে, ফুড সাপ্লিমেন্টের বিষয়টি তদারকির এখতিয়ার তাদের নয়। এটি দেখবে স্বাস্থ্য অধিসফতর কিংবা সিভিল সার্জন অফিস। কিন্তু মাঠপর্যায়ে আসলে কোনো তদারকির ব্যবস্থাই নেই। এগুলো বিএসটিআইয়ের বাধ্যতামূলক পণ্যের তালিকায় না থাকায় এগুলোর ক্ষেত্রে বিএসটিআইয়ের কতৃত্ব নির্ধারন করা যাচ্ছে না। জানা গেছে এসব মানহীন ভিটামিন ও ফুড সাপ্লিমেন্টের বাজারজাতের সঙ্গে জড়িত রয়েছে প্রায় শতাধিক ঔষধ কোম্পানি। তারা এসবের কিছু আমদানি করে এবং অধিকাংশই নকল ও ভেজাল করে বাজারে ছাড়ে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর সুত্র জানায় , ঔষধের ফার্মেসি গুলোতে ফুড সাপ্লিমেন্ট সামগ্রী বিক্রয়, প্রদর্শন ও মজুদ নিষিদ্ধ । অথচ এসব অবৈধ ফুড সাপ্লিমেন্ট কোম্পানির উৎপাদিত ফুড সাপ্লিমেন্ট হিসেবে অবাধে বাজার জাত করা হচ্ছে। সম্প্রতি নামি দামি অনেক ঔষধ কোম্পানি নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে পাশ কাটিয়ে অবৈধভাবে ফুড সাপ্লিমেন্টের ব্যানারে বাজারে একাধিক আইটেমের ঔষধ সামগ্রী উৎপাদন ও বাজারজাত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে । ঔষধ অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর অনুযায়ী কোন ডাক্তার অনুমোদিত ঔষধ প্রেসক্রিপসনে লিখতে পারবেন না। তবে এই অধ্যাদেশে কোন শাস্তির কথা উল্লেখ নেই। যা একটি শুভংকরের ফাঁকি। (সুত্র:৮ জুন, বাংলাদেশ প্রতিদিন ২০১৫)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *