মাছ ও সবজিতে ফরমালিনঃ

খাদ্যে ভেজাল ও এর ক্ষতিকারক প্রভাব

শুধু ব্যবসায়ক ফায়দা লুটতেই ইউরিয়া, ফরমালিনসহ নানা কেমিক্যাল মিশিয়ে মাছকে বিপজ্জনক-বিষে পরিণত করা হচ্ছে। হাট বাজার ঘুরে কেমিক্যাল মুক্ত মাছ মেলে না কোথাও। এর মধ্যেই ক্ষতিকর পিরানহা মাছ, রাক্ষুসে মাছ, রাক্ষুসে মাগুর , জীবন হানিকর পটকা মাছের দেদার বাজারজাত চলছে। বাঁধা দেওয়ার যেন কেউ নেই। মাঝে মাঝে র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালতের ঝটিকা অভিযানে বিষাক্ত মাছ জব্দ ও বিনষ্ট করা হয়। কিন্তু মাছে ক্ষতিকর কেমিক্যাল প্রয়োগ মোটেও বন্ধ করা যাচ্ছে না। সবুজ সবজিতেও ক্ষতিকারক কেমিক্যাল মেশানো হচ্ছে অবাধে। পাইকারী আড়তসমূহে মাছের স্তুপ দিয়ে তার ওপর প্রকাশ্যেই ফরমালিন ছিটানো হতো অথবা স্প্রে করা হতো কেমিক্যাল মিশ্রিত পানি। প্রশাসনের নজরদারির ভয়ে এখন আর আড়তে কেমিক্যাল মেশানোর ঝুঁকি নেয় না কেউ। মাছ আহরণ স্থল থেকেই প্রয়োগ করা হয় ফরমালিন। অপেক্ষকৃত বড় আকারের মাছগুলোতে তাজা থাকা অবস্থায় ইনজেকশনের মাধ্যমে ফরমালিন পুশ করা হয়। আর ছোট আকারের মাছগুলো শুধু ফরমালিন মিশ্রিত পানির ড্রামে চুবিয়ে তুললেই চলে।ব্যবসায়ীরা বাজারে ফরমালিন ব্যবহারের ব্যাপারটা অস্বীকার করলেও পুরান ঢাকার সোয়ারিঘাট বাজারের বেশীরভাগ দোকানেই অবাধে ফরমালিন ব্যবহার করতে দেখা যায়।

আড়তগুলো ফরমালিন মিশ্রিত বরফ দ্বারা মাছের গায়ে ফরমালিন প্রয়োগ করছে অভিনব স্টাইলে। এক্ষেত্রে ফরমালিন মেশানো পানি দিয়েই বরফের পাটা বানানো হয়। সেই ফরমালিন বরফের মধ্যেই দিনভর চাপা দিয়ে রাখা হয় মাছ। সাধারণ পানি দিয়ে বানানো বরফ পাটাগুলো ধবধবে সাদা থাকে , ফরমালিন বরফ পাটার রং থাকে হালকা বাদামি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *