দন্তক্ষয় বা ডেন্টাল ক্যারিজ থেকে রক্ষা পেতে হলে করণীয়

দন্তক্ষয় বা ডেন্টাল ক্যারিজ থেকে রক্ষা পেতে হলে করণীয়

বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত গুরত্বপূর্ণ হেলথ টিপস-২
দন্তক্ষয় বা ডেন্টাল ক্যারিজ থেকে রক্ষা পেতে হলে করণীয়

ডেন্টাল ক্যারিজ বা দন্তক্ষয় দাঁতের একটি সাধারন রোগ। এ রোগ শিশু- কিশোরদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। তবে যে কোনো বয়সের মানুষের ক্ষেত্রেই  এ রোগ দেখা দিতে পারে । দাঁত পড়ে যাওয়ার বিভিন্ন কারণের মধ্যে ডেন্টাল ক্যারিজ অন্যতম।

সমস্যার ধরন : দাঁতে থাকে বিভিন্ন জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়া। এগুলো শর্করাজাতীয় খাদ্য কণিকা ও মুখের থুতুর সঙ্গে মিলে ডেন্টাল প্লাকে জীবাণুগুলোর বংশবিস্তার ঘটে। শেষে দাঁত এক ধরনের এসিড নিঃসরন করে। যাহা দাঁতটি ক্ষয় করতে শুরু করে। ব্রাশ করে যদি ডেন্টাল প্লাক পরিষ্কার করা না হয়, তাহলে দাঁতের ক্ষয় শুরু হতে পারে। ডেন্টাল ক্যরিজ মুলত শুরু হয় দাঁতের এনামেল অর্থাৎ বাইরের আবরনের ওপর। তবে দাঁতের শিকড়ের বাইরের আবরনেও (সিমেন্টাম) এ রোগ হতে পারে। যদি মাড়ি রোগের কারও দাঁতের শিকড় উন্মুক্ত হয়ে পড়ে, তাহলেই শিকড়ের বাইরের আবরনে ডেন্টাল ক্যারিজ হওয়া সম্ভব। এ রোগের সূচনা হয় ছোট একটি গর্তের মাধ্যমে। প্রাথমিক অবস্থায় ডেন্টাল ক্যারিজ কোনো ব্যথা সৃষ্টি করে না। তবে ঠান্ডা পানি বা মিষ্টিজাত খাবার খেলে শিরশির করা অর্থাৎ সংবেদনশীলতা প্রকাশ পায়। প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা না করলে সমস্যা ক্রমেই বড় হয়ে দাঁতের ভেতরের মজ্জা (পাল্প) আক্রান্ত করে। মজ্জার সঙ্গে স্নায়ুর সংযোগ থাকে। ফলে দাঁতের মজ্জা যদি আক্রান্ত হয়, তাহলে প্রচন্ড ব্যথা শুরু হয়। এ অবস্থাকে বলে মজ্জার প্রদাহ বা পাল্লাইটিস। দীর্ঘদিন ধরে মজ্জার প্রদাহ চলতে থাকলে ক্রমেই তা মরে যেতে থাকে। এটিকে বলা হয় পাল্লাল নেক্রোসিস। এ জাতীয় সমস্যা হলে জীবাণু সংক্রমন দেখা দিয়ে মাড়ি ফুলে যেতে পারে, পুঁজ জমতে পারে এবং গুরুতর ক্ষেত্রে গালও ফুলে যেতে পারে।প্রাথমিক অবস্থায় ডেন্টাল ক্যারিজ ধরা পড়লে তা পরিষ্কার করে ভরাট ফিলিং করে দিয়ে সহজেই নিরাময় করা যায়।

চিকিৎসা : মুখের সামনের দিকের দাঁত ফিলিং করার জন্য দাঁতের রঙের সঙ্গে মিল রেখে ফিলিং উপাদান নির্বাচন করা হয়। কিন্তু পেছনের দিকের দাঁতে তা না করলেও চলে। এক্ষেত্রে যেকোন রঙের ফিলিং উপাদান ব্যবহার করা হয়। যদি ডেন্টাল ক্যরিজ যথাসময়ে চিকিৎসা না করা হয় তাহলে তা আরও বড় হয়ে দাঁতের মজ্জাকে আক্রান্ত করে। ফলে  মজ্জার প্রদাহ শুরু হয়। এক্ষেত্রে শুধু দাঁত ভরাট করে এ সমস্যার নিরাময় সম্ভব হয় না। তখন রুট ক্যানাল টিট্রমেন্ট নামক চিকিৎসার দরকার হতে পারে। এ চিকিৎসাটি সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। ট্রিটমিন্টের ক্ষেত্রে দাঁতের ভেতর থেকে সব মজ্জা একটু করে বের করে আনা হয়। দাঁতের মুকুটের ভেতর পাল্প চেম্বার নামক স্থান এবং শিকড়ের ভেতর ক্যানাল নামক সরু নালিতে। মজ্জগুলো বের করা হয়ে গেলে শিকড়ের ভেতরের ক্যনালগুলো পরিষ্কার করা হয়। এর পর ক্যানাল গুলো ভরাট করা হয় রাবার জাত উপাদান দিয়ে। সবশেষে দাঁতের চুড়ান্ত ফিলিং সম্পূর্ণ করা হয়।

ডেন্টাল ক্যারিজের কারণে যদি সংক্রমন (ইনফেকশন) দেখা দেয় এবং মাড়িতে পুঁজ হয়, তাহলে ক্ষেত্র বিশেষে পুঁজ সরিয়ে ফেলার দরকার হতে পারে। তবে মাড়ির সংক্রমন হলে অনেক সময়ই দাঁতের চারপাশের হাড় ক্ষয় হয়ে যেতে পারে। তখন দাঁত নড়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে দাঁতটি সংরক্ষন করা কঠিন হয়ে পড়ে। কখনো কখনো দাঁতের শিকড়ের শেষ মাথায় সিল্ট , গ্রানলুমা বা ইনফেকশন দেখা দেয়। তখন দাঁতটি সংরক্ষনের পদ্ধতি বেশ জটিল হয়ে ওঠে। সংরক্ষন করা সম্ভব না হলে দাঁতটি তুলে ফেলার দরকার হতে পারে। ডেন্টাল ক্যারিজ সৃষ্টি হওয়ার কারনে দাঁতের গর্ত যদি খুব বেশি বড় হয়ে যায়, তাহলে শক্ত কিছু খেতে গিয়ে দাঁতের মুকুট ভেঙ্গে যেতে পারে। তখন সাধারণ ফিলিং করে দাঁতটি মেরামত করা সম্ভব হয় না। দাঁতে ক্যাপ পরানোর দরকার হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *