ফুসফুসের ক্যান্সার

ফুসফুসের ক্যান্সার

বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত গুরত্বপূর্ণ হেলথ টিপস-৩
ফুসফুসের ক্যান্সার

মানবদেহের কোষগুলোর অতিমাত্রায় বৃদ্ধিও আকৃতিগত পরিবর্তনের কারনেই ক্যান্সার নামক রোগটির সুত্রপাত। স্বাভাবিকভাবেই ক্যান্সার নামক শব্দটি আমাদের কাছে একটি ভীতিকর শব্দ। মরণঘাতী হিসেবে এইডস- এর পরেই ক্যান্সারের অবস্থান। দেহের অন্যান্য স্থানের ক্যান্সারের মতো ফুসফুসের ক্যান্সারও একটি মারাত্মক ব্যাধিই শুধু নয় বরং আরও বেশি মারাত্মক ও জটিল। প্রতি বছর বিশ্বের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ ফুসফুসের ক্যান্সারে  আক্রান্ত হচ্ছে। যদিও মহিলাদের চেয়ে পুরুষই এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি ।

ইদানিং মহিলাদের মাঝে ধুমপানের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় মহিলারাও অধিক হারে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। ফুসফুসের ক্যান্সার কোনো জীবানুঘটিত রোগ নয়। বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি থাকলেও এ রোগ হতে সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভের কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি অদ্যাবধি আবিষ্কার হয়নি। যদি একেবারে প্রাথমিক অবস্থায় রোগটি ধরা পড়ে তবে তা থেকে মোটামুটি আরোগ্য লাভ করা যায়। জীবানুঘটিত রোগ না হওয়ায় এর বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রতিরোধক বা প্রতিষেধক আবিষ্কারে বিজ্ঞানীরা সাফল্য অর্জনে সক্ষম হয়নি। ধুমপায়ী ব্যক্তিরাই এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন বেশি। তবে অধুমপায়ীদের যে এ রোগ হতে পারে না তবে কিন্তু নয়। নগরায়নের এই বিশ্বে শিল্প কারখানা ও গাড়ি নির্গত কালো ধোঁয়াও ফুসফুসের ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ যেমন- ক্রোমিয়াম, ক্যাডনিয়াম, অ্যসবেসটস ইত্যাদি এ রোগ সৃষ্টি করতে পারে। ফুসফুসের ক্যান্সার সৃষ্টিতে অ্যসবেস্টসের প্রভাব এতো বেশি যে, সমসাময়িক কালে জাহাজ শিল্পে অ্যসবেস্টসের ব্যহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বর্তমান উন্নত বিশ্বে পারমাণবিক বর্জ্যও ক্যান্সারের একটি বড় কারন হিসাবে পরিগনিত হচ্ছে।  ফুসফুসের  প্রদাহজনিত রোগ যেমন – যক্ষা, নিউমোনিয়া ভালো হওয়ার পর ফুসফুসের আক্রান্ত স্থানে ক্যান্সার দেখা দিতে পারে। ফুসফুসের  যে কোনো স্থান ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে। এ রোগের উপসর্গ বা লক্ষণ সবার  ক্ষেত্রে একরকম হয় না। সাধারনভাবে এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, কাশি , কাশির সঙ্গে কফ বা রক্ত, শ্বাসকষ্ট, আক্রান্তের দিকে বুকে ব্যথা, হালকা জ্বর,ওজন হ্রাস ইত্যাদি লক্ষণ নিয়ে হাজির হতে পারে। অনেক সময় এ রোগ শরীরের অন্যান্য স্থানেও ছড়িয়ে পড়ে। যেমন- ঘাড়ে, গলায় বগলের নিচে ঢাকার মতো দেখা দিতে পারে, ফুসফুসের  আবরণী পর্দায় পানি জমতে পারে গলার স্বর ফ্যাসফ্যাসে হতে পারে, অঙ্গগুলোর অগ্রভাগ স্ফীত হতে পারে, রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে, প্রস্রাবের সঙ্গে অতিমাত্রায় প্রোটিন যেতে পারে , শরীরের মাংসপেশিগুলো দুর্বল হয়ে যেতে পারে. অনেক স্থানের হাড় দুর্বল হয়ে অল্প আঘাতে ভেঙ্গে যেতে পারে, এমনকি মস্তিস্কে ছড়িয়ে পড়লে রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে। ফুসফুসের ক্যান্সার নির্ণয়ের জন্য উপসর্গ বা লক্ষণসমুহে রোগের ইঙ্গিত বলে সাধারনভাবে রোগীর কফ পরীক্ষা ও বুকের এক্সরে করা হয়ে থাকে। এছাড়া সুনির্দিষ্ট ভাবে রোগ নিরুপনে ব্রংকোসকপি ও সিটি স্ক্যানের সাহায্য নেওয়া হয়ে থাকে। চিকিৎসার সুবিধার্থে চিকিৎসকরা এ ব্যাধিকে

প্রধানত : ২ ভাগে ভাগ করে থাকেন।

স্মলসেল কারসিনোমা ও না- স্মলসেল কারসিনোমা।

তবে মানব দেহে কোথাও যেন ক্যান্সার আক্রান্ত না হয় সে জন্য জীবনের প্রথম থেকে সাবধানতা অবলম্বন করা একান্ত কর্তব্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *