মুখগহ্বরে ক্যান্সার প্রতিকারের উপায়

মুখগহ্বরে ক্যান্সার প্রতিকারের উপায়

বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত গুরত্বপূর্ণ হেলথ টিপস-২
মুখগহ্বরে ক্যান্সার প্রতিকারের উপায়

মুখ গহ্ববের ক্যান্সারের হার ইদানীং বেড়েই চলছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৩ সালে এ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে আমেরিকায় মারা গেছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার মানুষ। মুখগহ্বরের ক্যান্সার সচরাচর দেখা যায় জিহ্বায়। তবে মুখ গহ্বরের তলদেশ, গালের ভিতরে ভাগ, মাড়ি , ঠোট ও মুখের তালুতেও এ ক্যান্সার দেখা দিতে পারে। এ ক্যান্সারের প্রায় ৯০ শতাংশ  স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা জাতীয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে কপোসিজ সার্কোমা নামক ক্যান্সারও হতে পারে।

লক্ষও উপসর্গ : দু’সপ্তাহের বেশি যদি জিহ্বা ঠোঁট বা মুখ গহ্বরের অন্যান্য অংশে পিন্ডের মতো কোনো স্ফীতি অথবা ঘা থাকে, তাহলে তা মুখ গহ্বরের ক্যান্সার বলে ধরে নেওয়া হয়। প্রাথমিক অবস্থায় এটি ছোট থাকে । বেশির ভাগ সময় তা ফ্যাকাশে রঙের হয়। তবে গাঢ় বর্ণহীন হতে পারে।

মুখ গহ্বরের ক্যান্সারের পূর্ব লক্ষণ হিসেবে মুখ গহ্বরের নরম কোষে লিউকোপ্লাকিয়া নামক সাদা দাগ বা ইরাইথ্রোপ্লাকিয়া নামক লাল দাগ দেখা দিতে পারে। লাল ও সাদা মেশানো দাগ বা ইরাইথ্রোপ্লাকিয়া দেখা দিতে পারে কারও কারও ক্ষেত্রে। এই ক্যান্সারের আরেকটি পূর্ব লক্ষণ হলো মুখ গহ্বরে ’লাইকেন প্লানস’ নামক সাদা দাগ। ”ওরাল সাব- মিউকাস ফাইব্রোসিস” নামক রোগকে এ ক্যানসারের আরেকটি পূর্ব লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়। এ কারনে রোগীর মুখ পুরোপুরি খুলতে অসুবিধ হওয়া, ঝাল কিংবা মশলাযুক্ত খাবার খাওয়ার সময় মুখে জ্বালাপোড়া করা ইত্যাদি সমস্যা দেখা যায়। প্রাথমিক অবস্থায় মুখ গহ্বরের ক্যান্সার ব্যথাহীন। তবে রোগের মাত্রা বাড়তে থাকলে আক্রান্ত স্থানে জ্বালা করতে পারে, ব্যথা হতে পারে। কারও কারও জিহ্বা নাড়তে অসুবিধা হতে পারে , ঢোক গিলতে কষ্ট হতে পারে। বিলম্বিত উপসর্গ হিসেবে ব্যথা এবং আক্রান্ত অংশে অবশ বোধ হতে পারে।

ধুমপান, তামাক সেবন, অতিরিক্ত মদ্যপান মুখ গহ্বরে ক্যান্সারের অন্যতম কারণ। অন্য কারণ গুলোর মধ্যে অস্বাস্থ্যকর মুখগহ্বর, কৃত্রিম দাঁত ঠিকমতো আঘাত লাগা, ভাঙ্গা দাঁত বা ডেন্টাল ক্যারিজের কারনে সৃষ্ট দাঁতের গর্তে দীর্ঘদিন ধরে ঘষা লেগে জিহ্বায় ক্ষত সৃষ্টি হওয়া, অপুষ্টি, ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের কারনে সৃষ্ট কোন কোন দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য। যাদের শরীরে হিমাটোপয়েটিক স্টেম সেল সংস্থাপন করা হয়েছে তাদের ক্ষেত্রেও মুখ গহ্বরের “স্কোয়ামাস” সেল কার্সিনোমা জাতীয় ক্যান্সারে ঝুঁকিখুব বেশি। কেউ যদি হিউম্যান প্যপিলোমা ভাইরাসের মাধ্যমে সংক্রমিত হন, তাহলে মুখ গহ্বরের ক্যান্সার হতে পারে বলে কোনো কোনো গবেষণায় দেখা গেছে। তবে তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *