হৃদরোগীদের রোজা পালন

হৃদরোগীদের রোজা পালন

বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত গুরত্বপূর্ণ হেলথ টিপস-২
হৃদরোগীদের রোজা পালন

উচ্চ রক্তচাপ রোজা পালন কোন প্রতিবন্ধক নয়। তবে রোগীদের রোজা পালনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের মাধ্যমে ঔষুধের ডোজ পরিবর্তন করে নিতে হবে। যে ঔষুধগুলো দিনে তিনবার খেতে হয়, সেগুলো বাদ দিয়ে দিনে একবার খেলেই চলে- এমন ঔষুধ প্রেসক্রাইব করবেন। অ্যনজাইনা পেক্টোরিস, হার্ট অ্যাটাকের রোগী এমনকি যাদের হৃৎপিন্ডের রক্তনালিতে রিং লাগানো আছে তারাও রোজা রাখতে পারবেন। এ জন্য ঔষুধের ডোজ পরিবর্তন করিয়ে নিতে হবে। যদি এসপেরিন সেবন করতে হয়, তাহলে তা সেহরির সময় সেবন করবেন। যদি এসিডিটির সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে ওমিপ্রাজল খেতে পারেন।

অনেক হৃদরোগীকেই ডাই-ইউরেটিক-ফ্লুসেমাইড, স্পাইরোনোল্যক্টোন, টোলাজেমাইড ইত্যাদি ঔষধ খেতে হয়। এ ঔষধগুলো দেহ থেকে পানি বের করে দেয়। ঘামের সঙ্গে সঙ্গে ঔষধ দেহ থেকে বেশি পরিমানে পানি বের করে দেয়ায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ জাতীয় ঔষধ সন্ধ্যার পর সেবন করুন। রোজা পালন করতে গিয়ে যদি হঠাৎ করে সিস্টোলিক রক্তচাপ ১৮০ মিলিমিটার পারদ চাপের বেশি ও ডায়াস্টোলিক ১১০ মিলিমিটার এর বেশি হয়, তাহলে রোজা ভেঙ্গে ফেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শে  ঔষধ সেবন করতে হয়। রোজা রাখলে যদি শ্বাসকষ্ট ও বুকে বেশি ব্যথা অনুভুত হয়, তাহলে রোজা না রাখাই ভালো। যদি উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে কিডনির সমস্যা থাকে, তাহলে কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞে পরামর্শ নেওয়া ভালো হবে। বুকের দুধ পান করাচ্ছেন এমন উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের রোজা পালনে কোনো সমস্যা নেই। হৃদরোগীরা ইফতারে ভাজা পোড়া খাবেন না। অতিরিক্ত খাবার খাবেন না। প্রচুর ফলমূল ও শাকসবজি  খাবেন। রোজার সময় খেজুর খেতে পারেন বেশি করে। পানি পান করুন বেশি করে। একটা কথা না বললেই নয়। তা হলো কোন ঔষধের ডোজ নিজে নিজে পরিবর্তন করবেন না। চিকিৎসক যদি মনে করেন রোজা পালনে আপনার জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বা অসুখ মারাত্মক আকার ধারন করার আশঙ্কা থাকে- তাহলে রোজা না রাখাই শ্রেয়। পরে রোজা গুলো আদায় বা বদলি রোজ পালন করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *