কালোজিরার শতগুন

কালোজিরার শতগুন

বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত গুরত্বপূর্ণ হেলথ টিপস-৩
কালোজিরার শতগুন

কালিজিরার বোটানিক্যাল নাম হচ্ছে “নাইজিলা স্যাটাইভা” এটি পার্সলে পরিবারের

একটি উদ্ভিদ। এটি রাজ টুট- এর সমাধি থেকে আবিষ্কৃত হয় এবং সেসময় এটা

পরকালে ব্যবহার করা হয় বলে বিশ্বাস করা হতো। মানুষ- ২০০০ বছর ধরে ঔষধ

হিসেবে কালিজিরার বীজ ব্যবহার করে আসছে। এটি লতাপাতা জাতীয় একটি

উদ্ভিদ। এর সুক্ষ্ন বেগুনি ও সাদা ফুল হয়ে থাকে। এ ফুল থেকে মৌমাছি মধু

আহরণ করে। মসলা হিসেবে কালিজিরার চাহিদা অনেক। কালিজিরার বীজ থেকে

তেল পাওয়া যা মানব শরীরের জন্য খুব উপকারী। এতে আছে ফসফেট, লৌহ,

ফসফরাস। এ ছাড়া এতে রয়েছে ক্যান্সার প্রতিরোধক ক্যারোটিন, বিভিন্ন রোগ

প্রতিরোধকারী উপাদান এবং অম্লরোগের প্রতিষেধক। কালিজিরা গাছের বীজে প্রায়

১০০টি রাসায়নিক যৌগ আছে। এখানে নামসহ কয়েকটি উল্লেখ করা হলো- রোম

সাম্রাজ্যের মতো প্রাচীন সভ্যতাগুলো কালিজিরাকে সর্ব ’’আরোগ্য’’ বলা হতো।

যার আক্ষরিক অর্থ সর্বব্যধির ঔষধ। রোমে ঔষধ হিসেবে কালিজিরার ব্যাপক

ব্যবহার ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কালিজিরার রয়েছে প্রোটিন, ভিটামিন বি-১ , ভিটামিন

বি-২,ভিটামিন বি-৩,ক্যালসিয়ামও আয়রন। কালিজিরার নিম্ন রক্তচাপকে বৃদ্ধি

এবং উচ্চ রক্তচাপকে হ্রসের মাধ্যমে শরীরে রক্তচাপ এর স্বাভাবিক মাত্রা সুনিশ্চিত

করতে সহায়তা করে।

এটি শ্বাসনতন্ত্র সংবহন এবং ইমিউন সিস্টেম, পেটএবং অন্ত্র , কিডনি এমনকি লিভার সম্পর্কিত রোগের চিকিৎসা করে। কালিজিরা ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তের শর্করা কমিয়ে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখতে সহায়তা করে। কালিজিরা চুলের গোড়ায় পুষ্টি পৌঁছে দিয়ে চুলপড়া বন্ধ করে এবং চুল বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এছাড়া ও জ্বর , কফ, গায়ের ব্যথা কিংবা ডায়াবেটিস, সকল ক্ষেত্রেই উপকারী বন্ধু কালিজিরা । প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষ খাবারের সঙ্গে ’’কালিজিরা’’গ্রহন করে আসছে।

কালোজিরার শতগুন

কালিজিরা বলতে এর বীজকেই বুঝায়। ঔষধ হিসেবে বীজই ব্যবহৃত হয়। বীজের রঙ কালো, স্বাদে তিতা, কটু ও উগ্রগন্ধযুক্ত। এতে আছে ফসফেট , লৌহ, ফসফরাস, কার্বোহাইড্রেট ও তেল। তেলের পরিমাণ  শতকরা প্রায় ২৮ ভাগ। এতে ভাইরাস সংক্রান্ত জীবাণুনাশক উপাদান এবং ক্যান্সার প্রতিষেধক ক্যারোটিন রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন, কালিজিরা একমাত্র মৃত্যু ব্যতীত সব রোগের অব্যর্থ মহৌষধ (বুখারী শরীফ )। আমরা জানি নবী করিম  (সাঃ) যা বলেছেন তা আল্লাহরই কথা এবং তা চির সত্য ও শাশ্বত। কালিজিরার কিছু ঔষধি গুণ তুলে ধরা হলো- শুধু খাবারের স্বাদ বৃদ্ধিতেই নয়, আয়ুর্বেদিক ও কবিরাজি চিকিৎসাতেও কালিজিরার ব্যবহার হয় । কালিজিরার বীজ থেকে একধরনের তেল তৈরি হয়। যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে আছে ফসফেট, আয়রন এবং ফসফরাস। এছাড়াও কালিজিরা বিভিন্ন রোগের হাত থেকে দেহকে রক্ষা করে। জেনে নিন, নিয়মিত কালিজিরা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে।

১.   কালিজিরার থাকা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এজেন্ট শরীরের রোগ-জীবাণু ধ্বংস করে। এই উপাদানের জন্য শরীরে সহজে ঘা, ফোড়া সংক্রামক রোগ হতে বাধা দেয়।

২.   চুল পড়া কমাতে ও ত্বকের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে কালিজিরা তেলের তুলনা হয় না।

৩.   এতে রয়েছে ক্ষুধা বাড়ানোর উপাদান। পেটের যাবতীয় রোগ- জীবাণু ও গ্যাস দূর করে ক্ষুধা বাড়ায়। যারা মোটা হতে চান, তাদের জন্য কালিজিরা উপকারী পথ্য।

৪.   কালিজিরার তেলের উপকার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। জ্বর, কফ, গায়ের ব্যথা দূর করার জন্য কালিজিরা যথেষ্ট উপকারী বন্ধু।

৫.   দাঁতে ব্যথা হলে কুসুম গরম পানিতে কালিজিরা দিয়ে কুলি করলে ব্যথা কমে। জিহ্বা, তালু , দাঁতের মাড়ির জীবানু মরে।

৬.      কালিজিরা কৃমি দূর করার জন্য কাজ করে। তারুণ্য ধরে রাখে দীর্ঘকাল।

বিভিন্ন রোগের হাত থেকে রক্ষা করে কালোজিরা

শুধু খাবারের স্বাদ বৃদ্ধিতেই নয়, আয়ুর্বেদিক ও কবিরাজি চিকিৎসাতেও কালিজিরার ব্যবহার হয়। কালিজিরার বীজ থেকে এক ধরনের তেল তৈরি হয় , যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে আছে ফসফেট , আয়রন এবং ফসফরাস। এছাড়াও কালোজিরা বিভিন্ন রোগের হাত থেকে দেহকে রক্ষা করে । জেনে নিন, নিয়মিত কালিজিরা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে-

১.   নিয়মিত পেট খারাপের সমস্যা থাকলে কালিজিরা সামান্য ভেজে গুড়ো করে ৫০০ মিলিগ্রাম হারে ৭-৮ চা চামচ দুধে মিশিয়ে সকালে ও বিকেলে সাত দিন ধরে খেলে ভাল ফল পাওয়া যায়।

২.   রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে কালিজিরা। নিয়মিত কালিজিরা খেলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সতেজ থাকে। এতে করে যে কোনও জীবানুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেহকে প্রস্তুত করে তোলে এবং সার্বিকভাবে স্বাস্থ্যের উন্নতি করে।

৩.   যারা হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় ভুগে থাকেন তাদের জন্য কালিজিরা অনেক বেশি উপকারী। প্রতিদিন কালিজিরা ভর্তা রাখুন খাদ্য তালিকায়। কালিজিরা হাঁপানি বা শ্বাস কষ্টজনিত সমস্যা দুর করে।

৪.   প্রচন্ড সর্দি হয়ে মাথা যন্ত্রণা হলে কালিজিরা কাপড়ে বেঁধে শুঁকতে হবে। তবে কাপড়ের মধ্যে নেওয়ার আগে তা ধুয়ে নিতে হবে। তাতে গন্ধ বের হয় এবং উপকার হয়।

৫.   প্রচন্ড মাথা ব্যথাতে কালিজিরা বেটে কপালে প্রলেপ দিলে ও মিহি গুড়োর নস্যি নিলে উপকার হয়।

৬.      কালিজিরা ভাজা তেল গায়ে মাখলে চুলকানিতে উপকার হয়।

৭.   কালিজিরা ডায়াবেটিক রোগীদের রক্তের গ্লুকোজ কমিয়ে দেয়। এতে করে কালিজিরা  ডায়াবেটিক  নিয়ন্ত্রনে রাখতে সহায়তা করে।

৮.      স্মৃতিভ্রংশ ও স্মরণশক্তির দুর্বলতায় কালিজিরা খুব কার্যকর।

৯.       পরিমাণমতো কালিজিরা খেলে প্রস্রাব পরিষ্কার হয়।

১০. শিশুদের কালিজিরা খাওয়ানোর অভ্যাস করলে দ্রুত শিশুর দৈহিক ও মানসিকক বৃদ্ধি ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *