যখন তখন প্যারাসিটামল নয়

যখন তখন প্যারাসিটামল নয়
যখন তখন প্যারাসিটামল নয়
যখন তখন প্যারাসিটামল নয়

প্যারাসিটামল অতি পরিচিত একটি ঔষধ। জ্বর কমানোর গুণ থাকায় এর পরিচিতি ব্যাপক। বেদনা নাশক , জ্বর উপশমক হিসেবে প্যারাসিটামল বেশ কার্যকর এবং নিরাপদ বলে আমাদের দেশে ঔষুধটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কিন্তু অনেকেই জানে না এ ঔষধের অধিক ব্যবহারে বা অপব্যবহারে দেহের কি ক্ষতি হয়? প্যারাসিটামল মাথা ব্যথা,জ্বর, মাইগ্রেন, দাঁতে ব্যথা, মাংসের ব্যথার জন্য খুবই উপকারী। কিন্তু অতিরিক্ত সেবনে লিভারের কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনকি গ্যস্ট্রিকের সমস্যাও দেখা দেয়। সম্প্রতি আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগস প্যারাসিটামলের সঙ্গে কডিন ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছেন। কারণ এতে মৃত্যুর আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। কিছু বিজ্ঞানীর ভাষ্য হলো- প্যারাসিটামলের সঙ্গে ক্যাফেইন গ্রহণ শরীরে বিষাক্ততার পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়ে লিভার ড্যামেজ করে দেয়। ২০১০ সাল পর্যন্ত এটি ভাবা হতো যে, গর্ভবতী মায়ের জন্য প্যারাসিটামল নিরাপদ। এখন বলা হচ্ছে নিরাপদ নয়। ব্রিটিশ জার্নাল অব ফার্মাকলজিতে গবেষকরা প্রকাশ করেছেন, প্যারাসিটামলের কারণে সৃষ্ট পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার লক্ষণগুলো অধিকাংশ সময়, এমনকি ডাক্তারের নজরও এড়িয়ে যায়। কারন একসঙ্গে অনেক প্যারাসিটামল সেবন করলে রক্তক পরীক্ষায় যে ধরনের চিহ্ন পরিলক্ষিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে সামান্য বেশি সেবনকারীদের রক্তে তা পরিলক্ষিত হয় না। কিন্তু ক্ষতির পরিমান এ ক্ষেত্রে বেশি। বিট্রিশ ইউনিভার্সিটি হসপিটালের লিভার ট্রান্সপ্লান্ট বিভাগের একটি গবেষণায় ড. কেনিথ সিম্পসন দেখিয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে প্যারাসিটামল সেবনকারীদের লিভার ও ব্রেনের ড্যামেজ হওয়ার হার অত্যধিক বেশি এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এমন হলে তাদের ডায়ালাইসিস ও ক্ষেত্রবিশেষ কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস দিতে হয়। প্যারাসিটামল যেসব ক্ষেত্রে ব্যবহার করা উচিত নয় তা হলো : গর্ভাবস্থা , শিশুকে বুকের দুধ দেন এমন মায়েরা , রক্তক পাতলা করার অ্যাসপিরিন জাতীয় ঔষধ খেতে থাকলে , গ্যাস্ট্রিক বা আলসার থাকলে । পারশপতিক্রিয়া সব ঔষধের থাকে ,তারপরও রোগমুক্ত থাকতে ঔষধ তো গ্রহণ করতে হবে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্যারাসিটামলের ডোজ ৫০০ মিলি গ্রামের ট্যাবলেট একটি, কখনও প্রয়োজনে ২টি , তবে ২৪ ঘন্টার ৪০০০মিলিগ্রামের বেশি খাওয়া যাবে না। শিশুদের ক্ষেত্রে বয়স এবং ওজন অনুযায়ী প্যারাসিটামল সিরাট দিতে হবে। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানইজেশন পরামর্শ দিয়েছে যদি শিশুর জ্বর১০১.৩ ফারেনতাইটের বেশি থাকে , তবেই প্যারাসিটামল সেবন করা যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *